বাংলাদেশে অনাবাসী বৈদেশিক মুদ্রা আমানত (NFCD) অ্যাকাউন্টের নিয়ম কানুন

 বাংলাদেশে অনাবাসী বৈদেশিক মুদ্রা আমানত (NFCD) অ্যাকাউন্টের নিয়ম কানুন 

 

অনাবাসী বৈদেশিক মুদ্রা আমানত (NFCD) অ্যাকাউন্ট  এক ধরনের সুধবাহী বৈদেশিক মুদ্রার  অ্যাকাউন  এক মাস থেকে পাঁচ বছর মেয়াদে আমানত হিসেবে ব্যাংকের এই হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রা রাখা যায়এই ক্ষেত্রে ব্যাংক আমানতের মেয়াদেরর উপর ভিত্তি করে সুদ প্রদান করেঅ্যাকাউন্টগুলি মার্কিন ডলার, পাউন্ড স্টার্লিং, ইউরো বা জাপানি ইয়েন কোন প্রকার প্রাথমিক জমা ব্যতিরেকে  খোলা যায়এই অ্যাকাউন্ট থেকে ইন্টারেস্ট পেতে হলে ন্যূনতম  USD ১০০০(এক হাজার) বা পাউন্ড স্টার্লিং ৫০০ (পাঁচশ) বা সমতুল্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার ব্যালেন্স সংরক্ষণ করতে হয়। সাধারণত বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশী নাগরিকদের সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যে এই হিসাব বাংলাদেশ ব্যাংক অবাধে খোলার অনুমতি প্রদান করেবিদেশ থেকে ফেরত আসার পর হিসাবধারী যতদিন চায় এই হিসাব মেন্টেন করতে পারে।   

 

অনাবাসী বৈদেশিক মুদ্রা আমানত (NFCD) অ্যাকাউন্ট  

 

অনাবাসী বাংলাদেশী নাগরিক এবং বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্যক্তি সহ যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে এবং সাধারণত বিদেশে বসবাসকরে  তারা এই হিসাব বাংলাদেশের যেকোনো ব্যাংকের এডি শাখায় খুলতে পারেনতাছাড়া বিদেশি নাগরিক ,কোম্পানি, ফার্ম , ব্যাংক , অন্যান্য ফিনান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন, (বিদেশে নিবন্ধিতইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টরস  এবং ইপিজেড , ইজেড  এবং হাইটেক পার্কের অধীনে ১০০ ভাগ রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান এই ধরনের হিসাব পরিচালনা করতে পারে 

বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা বিদেশের বিভিন্ন হাই কমিশন অফিসে কর্মরত এবং আইএমএফ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ,আইডিবি এডিবি প্রভৃতি আন্তর্জাতিক সংস্থায়  কর্মরত বাংলাদেশী নাগরিক বিদেশে অবস্থানকালে এই হিসাব খুলতে পারেন।বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন এর নাবিক এই হিসাব খুলতে পারে না, তবে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন এর কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা শোর স্টাফ হিসাবে বিদেশে  কর্মরত তাদের ক্ষেত্রে এই একাউন্ট খুলতে কোনো বাধা নেই 

ওয়েজ আর্নারে অন্যান্য হিসাবে রক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রা স্থানান্তরের মাধ্যমে এই হিসাব খোলা যায় 

 

কিভাবে একজন ব্যক্তি একাউন্ট খুলবেন 

 

দেশে থাকাকালীন সময়ে সশরীরে ব্যাংকে উপস্থিত হয়ে অথবা বাংলাদেশের মিশন কর্তৃক অনুস্বাক্ষর সত্যায়ন এর মাধ্যমে এই হিসাব খোলা যায় এই ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্তৃক স্বীকৃত যে কোন ব্যক্তি দ্বারা ইন্ট্রোডিউস করা প্রয়োজন হয় 

একাউন্ট অপেনিং ফর্ম এর সাথে যে সকল কাগজপত্র ব্যাংকে উপস্থাপন করতে হয় তা যথাক্রমে:  

(১) পাসপোর্টের সত্যায়িত কপি বিদেশি পাসপোর্ট হইলে বাংলাদেশ মিশন কর্তৃক “ ন ভিসা রিকোয়ার্ডসিল সম্বলিত পেজের ফটোকপি; 

(২) বৈদেশিক রেসিডেন্স পারমিট এর কপি অথবা ভিসার কপি; 

(৩) বৈদেশিক চাকুরী অথবা স্বনির্ভর সংক্রান্ত দলিলাদি যা অর্থের উৎস হিসেবে  বিবেচিত; 

(৪) হিসাবধারী এবং মনোনীত নমিনির ফটোগ্রাফি: 

(৫) মনোনীত নমিনির এনআইডি অথবা পাসপোর্ট এর কপি 

কোম্পানির ক্ষেত্রেএকাউন্ট অপেনিং জন্য কোম্পানি নিবন্ধনের স্থান এবং কোম্পানি ধরন অনুযায়ী ব্যাংকের চাহিদামত কাগজপত্র সরবরাহ করতে হয় 

 

কোন ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা এই একাউন্টে একজন ব্যক্তি জমা করতে পারে 

 

 বিদেশেে অর্জিত আয় রেমিটেন্স এর মাধ্যমে এই হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রায় ক্রেডিট করা যায়বিদেশে নিয়োগকর্তার সাথে কর্মসংস্থানের চুক্তি অনুযায়ী প্রাপ্য পেনশনএন্ড সার্ভিস বেনিফিট বৈদেশিক মুদ্রায় এই একাউন্টে ক্রেডিট করা যায়প্রতিবার বাংলাদেশের আগমনকালে অ্যাকাউন্ট হোল্ডার তার সাথে আনা বৈদেশিক মুদ্রা এই  হিসাবে জমা করতে পারে এই ক্ষেত্রে ১০ হাজার ডলারের বেশি হলে FMJ FORM এ   ডিক্লারেশন  সহ ব্যাংকে জমা করতে হয়প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে যেকোনো ইনওয়ার্ড রেমিটেন্স এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রায় ক্রেডিট করা যায 

 

এই একাউন্ট থেকে কি কি করা যায় 

 

এই একাউন্টের ব্যালেন্স সুদ সহ প্রিন্সিপাল অ্যামাউন্ট অবাধে বিদেশ ফেরত নেয়া যায়প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কর প্রদান সাপেক্ষে বিভিন্ন বৈদেশিক দায় পরিশোধ করা যায়বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট বন্ড ,ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ডপ্রিমিয়াম বন্ড সরাসরি এই অ্যাকাউন্ট থেকে ক্রয় করা যায়তাছাড়া আমদানি খরচ ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ পাতি এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত খরচ এই অ্যাকাউন্ট থেকে অবাধে করা যায় 

 

 

Comments